সাবজেক্ট রিভিউ

রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কেন পড়বেন?

রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টি কেমন?

ছোটবেলায় “Transformers”, “Terminator” দেখে নি এমন মানুষ খুজে পাওয়া কঠিন রোবটিক্স । ব্যাপারটা কেমন হয় যদি তোমার নিজের একটা “Bubmlebee” থাকে এবং যদি তুমি নিজেই হও সেটার নির্মাতা? তাহলে তো কথাই নেই!

রোবট মানেই শুধু মানবাকৃতির গঠনকে বুঝায় না! এর ডোমেইন অনেক বিস্তৃত। আমাদের চারিপাশে তাকালেই আমরা খুব ভালো করেই সেটা বুঝতে পারব। হোম অটোমেশন থেকে শুরু করে স্পেস এক্সপ্লোরেশন কোথায় নেই রোবোটিকস। লজিক আর সার্কিটের দুনিয়ার বাসিন্দা যদি হতে চাও তাহলে রোবোটিক্স তোমার জন্য!

রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট রিভিউ

 

রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সাধারণত কত বছরের?

চার বছরের এবং আটটি সেমিস্টার।

 

রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বাংলাদেশের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়?

বর্তমানে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবটিক্স সংক্রান্ত কোর্স অফার করা হয় তবে কুয়েট, চুয়েট, রুয়েট এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ এ মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর আন্ডারগ্র্যাড প্রোগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।

খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকাট্রনিক্স ডিপার্টমেন্ট এর মাস্টার্স প্রোগ্রাম দুই বছরের। এক বছরে দুই সেমিস্টার করে মোট ৪ সেমিস্টার। প্রথম দুই সেমিস্টার বাংলাদেশে। আর কোন স্টুডেন্ট যদি প্রথম বর্ষে ভাল পারফর্ম করে তাহলে তার উপর ভিত্তি করে ৩য় সেমিস্টার পড়ার জন্য স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব অভিয়েডো তে পড়ার সুযোগ রয়েছে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে।

 

রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে চার বছরে কি কি কোর্স করানো হয়?

মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর কোর্সগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি অন্যান্য ছোটখাটো কোর্স সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত থাকে।

See also  আমরা কেন পদার্থবিজ্ঞান পড়ব এ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন

 

এ বিষয়ে পড়াশোনার ধরন কেমন?

পড়াশোনা বলতে গেলে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের রয়েছে। কোনটাই কোনোটার চেয়ে কম নয়।

 

এই বিষয়ে পড়াকালীন কি কি এক্সট্রা কারিকুলার আক্টিভিটির সাথে যুক্ত থাকা যায় যা পরবর্তীতে ক্যারিয়ার গঠনে হেল্প করবে?

রোবটিক্স কন্টেস্ট, প্রজেক্ট শো-কেসিং, টেকনোলোজি বেসড আইডিয়া কন্টেস্ট, বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডে মেন্টরিং করা। স্নাতক পর্যায়ে এসব বিষয়ের সাথে জড়িত থাকলে অনেক ধরনের স্কিল ডেভেলপ হয় যা পরবর্তীতে পেশাগত জীবনে কাজে লাগে।

 

এ বিষয়ে পড়াশোনা করে ভালো করতে হলে এসএসসি অথবা এইচএসসি লেভেলের কোন বিষয়গুলোর উপর দক্ষতা থাকা প্রয়োজন?

পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, আইসিটি এর উপর বেশি দক্ষতা থাকতে হবে।

একজন সদ্য এইচএসসি পাশ শিক্ষার্থী কিভাবে বুঝতে পারবে এ বিষয়ে তার আগ্রহ রয়েছে কিনা?

ইউটিউবে বিভিন্ন রোবট মেকিং এর স্টেপ গুলো দেখে নিজেকে যাচাই করতে পারে। Robot/System Design -> Manufacturing->Assembly->Programming ইত্যাদি বিভিন্ন ধাপে রোবটের বানানোর কাজ হয়ে থাকে। তবে কেউ চাইলে ভালো লাগার অংশ গুলোতেও মনোযোগ দিতে পারে। সমস্যা হচ্ছে অনেকের কাছে শুধু ব্যবহারিক অংশ ভালো লাগে, তাদের জন্যে তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো খুবই কষ্টসাধ্য। কিন্তু দুটোর মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো ইন্টার্নশিপের সুযোগ আছে?

আছে। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই DataSoft নামক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে ইন্টার্নশিপ এর সুযোগ পেয়েছিলো। পরবর্তীতে তাঁরা সেখানে ফুল টাইম হিসেবে চাকরি পেয়েছে। এছাড়াও কিছু কোম্পানি ইন্টার্নশিপ এর সুযোগ দিয়ে থাকে।

 

রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রগুলো কি কি?

See also  আর্কিটেকচার নিয়ে কেন পড়বেন: সাবজেক্ট রিভিউ

যেহেতু এই বিষয়ে, মেকানিক্যাল , ইলেক্ট্রিক্যাল, কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর সম্মিলিত কোর্স পড়ানো হয়, সেক্ষেত্রে একজন চাইলে এই ধরনের যেকোন ক্ষেত্রেই যেতে পারবে। তবে সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা আছে কিনা সেটা এখনো জানা যায়নি যেহেতু এখনো কেউ এধরণের নিয়োগের মধ্য দিয়ে যায়নি।

 

এ বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে প্রাইভেট চাকরির ক্ষেত্র গুলো কি কি?

এই বিষয়ের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে IOT, Machine Learning, Computer Vision, Industrial Automation etc. বাহিরের দেশে রোবটিক্স, অটোমেশন, আইওটি এর অনেক চাকরি রয়েছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই নিয়োগের কয়েকটি ধাপ রয়েছে। তবে এই বিভাগ থেকে সেরকম অভিজ্ঞতা কারো হয়ে উঠার সুযোগ হয়নি কারণ এবছরই প্রথম ব্যাচ ব্যাচেলর শেষ করেছে। বাইরের দেশের চাকরি নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেক লম্বা প্রসেস। আশা করি খুব শীঘ্রই অনেকে এরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং আমরা সেগুলো শেয়ার করতে পারবো।

 

এ বিষয়ে পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হবার সুযোগ কেমন?

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সম্পর্কিত বিভাগ আছে সেগুলো তে লেকচারার হওয়া যায়। নিজস্ব বিভাগেও যোগদান করার সুযোগ থাকে। লেকচারার হতে সিজিপিএ ভালো থাকা, রিসার্চ / জার্নাল পাব্লিকেশন্স এবং বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে যোগ্যতা যাচাই করা হয়। তবে প্রাথমিক আবেদনে সিজিপিএ র গুরুত্ব বেশি ।

 

রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শেষে স্যালারি রেঞ্জ কেমন?

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বেসরকারি চাকরি তে ২০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যে শুরু হয় এবং ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়। সরকারি/লেকচারার এর ক্ষেত্রেও সব মিলিয়ে এরকম স্যালারি ই থাকে শুরুতে। তবে বিদেশের ভালো ভালো কোম্পানিতে বাৎসরিক ৬০,০০০ ডলার বা বেশি দিয়ে শুরু হয়। ভালোভাবে জানার জন্যে Linkedin, Glassdoor সাইটগুলোতে ঘাটাঘাটি করতে হবে।

See also  সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কেন পড়বেন: সাবজেক্ট রিভিউ

রিসার্চের কেমন সুযোগ রয়েছে?

এই বিষয়ের রিসার্চের সুযোগ অনেক এর কারণ হচ্ছে বিষয়টি মাল্টি ডাইমেনশনাল। বিভিন্ন ডাইমেনশন এর সমন্বয় সাধন করে দক্ষতার সাথে কাজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই বিষয় পড়ে বাইরের কোন দেশগুলোয় যাওয়ার সুযোগ বেশি?

সব দেশেই যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বিশেষ করে জার্মানি তে এই বিষয়ে সম্পর্কিত কাজ বেশি হয়। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপান, কোরিয়া রোবটিক্স খাতের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্য গেলে স্কলারশিপ কি ধরণের পাওয়া যায়? স্কলারশিপ পেতে কি কি পন্থা অবলম্বন করতে হয়?

দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই GRE, IELTS/TOEFL এগুলো তে ভালো স্কোর থাকতে হবে। রিসার্চ অভিজ্ঞতা, পেপার/পাবলিকেশন্স থাকতে হবে। এরপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের সাথে যোগাযোগ করে, এপ্লাই করতে হয়।

সব কথার শেষ কথা, সবসময় নিজের প্যাশন কে গুরুত্ব দিতে হবে। সেক্ষত্রে তোমার অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে যা যা পড়ানো হয় সেগুলো তোমার ভালো লাগার মধ্যে কিনা। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ বছর অপছন্দনীয় বিষয়গুলো পড়তে অবশ্যই ভালো লাগবেনা। তাই বলবো বিভাগে কী কী পড়ানো হয়, সেগুলো ভালো করে ঘেটে দেখা‌ প্রয়োজন। আর সবকিছুই যে ভালো লাগবে ব্যাপারটা তেমনও না‌। এই অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই রয়েছে‌।

সেক্ষত্রে তোমার যে অংশে খুব ভালো লাগে সেই অংশে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি স্কিল্ড হয়ে থাকা প্রয়োজন,। আর চাকরির ক্ষেত্র শুধু দেশে ক্ষেত্র দেখলে হবেনা স্বপ্ন থাকতে হবে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি অথবা ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করা। সবার জন্যে শুভ কামনা।

Related Articles

Back to top button