সাবজেক্ট রিভিউ

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কেন পড়বেন:সাবজেক্ট রিভিউ

CSE বা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে কেন পড়বেন?

এন্টার বাটন চাপলেই কম্পিউটার তোমাকে নিয়ে যাচ্ছে তোমার কাঙ্ক্ষিত উইন্ডোতে, তোমার আঙুলের ছোঁয়া পেয়েই তোমার স্মার্টফোন ঠিকঠাক বুঝে যাচ্ছে তুমি আসলে তাকে কি নির্দেশ দিচ্ছো। মাঝেমাঝেই নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে হয়েছে যে, একটা অবুঝ যন্ত্র কীভাবে এত বুদ্ধিমানের মতো কাজ করছে? এখানেই রয়েছে প্রোগ্রামিংয়ের জাদু, যা কিনা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল বিষয়বস্তু।

তুমি যদি যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে ভালোবাসো, কিংবা গণিতে খুব পারদর্শী হয়ে থাকে, তাহলে প্রোগ্রামিং তথা সিএসই তোমাকেই খুঁজছে! তবে সিএসই তে যে কেবল প্রোগ্রামিংই রয়েছে এমনটা নয়, এর পাশাপাশি রয়েছে আরো মজাদার কিছু কোর্স। কিন্তু প্রোগ্রামিংই যদি সিএসইর বেইজ হয় তাহলে অন্যান্য কোর্সগুলোর প্রয়োজনীয়তা কোথায়?

সেগুলো পড়ানোর কারন কি? প্রোগ্রামিং দিয়ে মূলত সফটওয়্যার তৈরি করা হয়, অন্যান্য কোর্সগুলোতে থাকে অ্যালগরিদম, ডাটা স্ট্রাকচার ইত্যাদির মতো কিছু টপিক এবং হার্ডওয়্যার রিলেটেড বিভিন্ন ধারণা। সামগ্রিকভাবে কি কি কোর্স পড়ানো হয়, সে বিষয়ে আমরা একটু পর বিস্তারিত ধারণা পাবো।

CSE কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট রিভিউ

কোর্স কয় বছরের হয়?

সাধারণত সিএসইর কোর্সটি হয়ে থাকে চার বছর মেয়াদী।

 

বাংলাদেশের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়?

BUET, IUT, MIST, KUET, RUET, CUET, SUST সহ সকল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সহ প্রায় সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েই এই সাবজেক্টটি পড়ানো হয়।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রোফেশনাল কোর্সে বেশ কিছু কলেজে এই সাবজেক্টটি পড়ানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজে, মহানগর মহিলা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, কক্সবাজার সিটি কলেজ ইত্যাদি।

CSE বা কম্পিউটার সায়েন্স এ চার বছর সময় হলে কি কি কোর্স করানো হয়?

সামান্য ভিন্নতা ব্যতীত প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানেই সিএসইর কমন কিছু কোর্স পড়ানো হয় চার বছরব্যাপী।

তার মাঝে উল্লেখ্যযোগ্য কিছু কোর্সের নাম তুলে ধরা হলো

See also  ফার্মেসি নিয়ে কেন পড়বেন: সাবজেক্ট রিভিউ

– Introduction to Programming
– Structured Programming
– Object Oriented Programming
– Discrete Mathematics
– Engineering Graphics
– Electronic Devices & Circuits
– Matrices, Vector & Geometry
– Integral Calculus
– Engineering Ethics
– Algorithm Design & Analysis
– Complex Variables, Laplace Transform & Fourier Series
– Numerical Analysis
– Theory of Computation
– Operating System & System Programming
– Software Engineering & Design Patterns
– Microprocessor & Embedded Systems
– Computer Networking
– Machine Learning
– Artificial Intelligence & Expert System

আগেই বলা হয়েছে যে, প্রোগ্রামিং হচ্ছে সিএসইর কোর টপিক, তবে কোন প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখাবে সেটা তাদের উপর নির্ভর করে। সাধারণত আমাদের দেশে C, C++, C#, Java বা Python এর মতো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজগুলোই শেখানো হয়। তবে কোনো শিক্ষার্থী চাইলেই নিজ উদ্যোগে যেকোনো ল্যাংগুয়েজ শিখতে এবং পারদর্শিতা অর্জন করতে পারে!

 

একদিন সদ্য এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা কিভাবে বুঝতে পারবে এ বিষয়ে তার আগ্রহ রয়েছে কিনা?

সিএসই নিয়ে সবার একটা ধারণা করে কোড করে একদম ফাটায়ে ফেলবো, কম্পিউটারের সামনে সারাদিন বসে বিশ্বজয় করবো। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, এটা পুরোটাই অ্যানালিটিক্যাল স্কিল আর থট প্রোসেসের উপর ডিপেন্ডেন্ট। এখানে প্রতিটা প্রবলেম, সিচুয়েশান বুঝে যেমন অ্যানালাইজ করা লাগে, নিত্যনতুন টেকনোলজির সাথে নিজেকে আপগ্রেডও করা লাগে। ম্যাথ এর ভাল ইমপ্লিমেন্টেশন আছে থিওরিটিক্যাল সাইডে। আর প্র‍্যাকটিক্যালি ইন্ডাস্ট্রি লেভেলে থিওরি, অ্যানালিটিক্যাল স্কিল, ডিসিশান মেকিং আর কোডিং সবই লাগে।

তোমার যদি নতুন নতুন প্রবলেম সলভ করতে ভাল লাগে, নিজের চিন্তাকে টেকনোলজি দিয়ে এফিশিয়েন্টলি করিয়ে নিতে ইচ্ছা প্রায়ই জাগে, তাহলে তুমি রাইট ট্র‍্যাকেই আছ।
তোমার প্রতি স্টেপের চিন্তা থেকে একটা মেশিন ইন্টেলিজেন্টলি কাজ করে দেখাবে, তো পুরোটা তোমার হাতেই, লিমিটেশান শুধু কতটুকু ভাবতে পারো সেটা।

 

CSE বা কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার ধরন কি রকম?

কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা করতে গেলে সাধারনত তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক উভয় ধরনের কোর্সই করতে হয়। কোনোটার গুরুত্ব কোনোটার চেয়ে কম নয়।

 

CSE বা কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করে ভালো করতে হলে এইচএসসি অথবা এসএসসি লেভেলের কোন বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন?

ম্যাথ, ম্যাথ এবং ম্যাথ। আইসিটিতে ভালো দখল প্লাস পয়েন্ট। অনেকের ধারণা আগে থেকে হয়ত প্রোগ্রামিং শেখা লাগে, এটা খুবই ভুল একটা ধারণা। একদম জিরো থেকে শুরু করেও টপ লেভেলে ওঠা সম্ভব।

See also  অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কেন পড়বেন?

ডিপেন্ড করে কত উইলিংলি বিষয়গুলো ক্যাপচার করার চেষ্টা রয়েছে।

এ বিষয়ে পড়াশোনাকালীন কি কি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটির সাথে যুক্ত থাকা যায় যা পরবর্তীতে ক্যারিয়ার গঠনে হেল্প করবে?

বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট, হ্যাকাথন, ইনোভেশান আইডিয়া বেসড কমপিটিশান, সফটওয়্যার ডেভেলাপমেন্ট কন্টেস্ট সহ অনেক কিছুই আছে। আর শখের বসে ছোটখাট প্রোজেক্ট করতে থাকলে সেটা ভবিষ্যতে প্রচুর সুবিধা দেয়।

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাহিরে ওয়েব ডেভেলপিং, মেশিন লার্নিং ও রোবোটিক্স ভিত্তিক বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনারে অংশ নিয়ে শেখা যায় নানান জিনিস। রেগুলার পড়াশোনার পাশাপাশি অংশ নেওয়া যায় বিভিন্ন অনলাইন প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট ও কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিংয়ে। এতে নিজের স্কিল যেমন বাড়ে, তেমনি পরিচিত হওয়া যায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ কোডারদের প্রবলেম সলভিং স্টাইলের সাথে। এটা এমনকি চাকরি ক্ষেত্রেও হেল্পফুল, কারণ যেকোনো আইটি কোম্পানিতে একজন দক্ষ প্রোগ্রামারের চাহিদা সর্বাধিক।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোন ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে?

অনেক জায়গাতেই এই ইন্টার্নশিপের অফার দেয়। খুবই হাতে গোনা জায়গায় পেইড ইন্টার্নশিপের স্কোপ থাকে। তবে ভার্সিটি রানিং অবস্থায় ইন্টার্নশিপ খুব একটা ভালো অপশন না যদি কারো রিসার্চ এ ফোকাস বেশি থাকে, আর ইন্টার্নশিপে ফ্রি তে/অনেক কম টাকায় প্রায় হিউজ অ্যামাউন্টের ওয়ার্কলোড দেয়, এটা ব্যাড প্র‍্যাক্টিস ইন্ডাস্ট্রিতে। ট্রেড অফ আছেই, সেটা এখন নিজেকে জাজ করে নিতে হবে, আদৌ এত সময় আর পরিশ্রম দেওয়া ওর্দি কিনা।

CSE বা কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরির ক্ষেত্রে কিরকম?

বর্তমানে চাকরির বাজারে সিএসই গ্র্যাজুয়েটদের জন্য রয়েছে অপার সম্ভাবনা, প্রায় সব আইটি সেক্টরেই রয়েছে সিএসইর আধিপত্য। পড়াশোনা শেষ করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যেকোনো প্রাইভেট কোম্পানিতে জয়েন করা যায়। TigerIT, Southtech, Samsung ইত্যাদি নামি কোম্পানিতে প্রতিবছরই ফ্রেশার হিসেবে জয়েন করছে অনেক প্রতিভাবান গ্র্যাজুয়েটরা।

শুধু সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেই নয়, এর পাশাপাশি ওয়েব ডেভেলপার, নেটওয়ার্ক সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও সিস্টেম অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিতে, যদিও বর্তমানের চাকরিপ্রার্থীদের সিস্টেম ল্যাংগুয়েজ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখা যায়না খুব বেশি।

এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি অসংখ্য সেক্টর রয়েছে। সর্বোপরি, মাঝে মাঝেই তো আমরা শুনতে পাচ্ছি যে, আমাদের দেশ থেকে অনেকেই জব পাচ্ছে Google এ! Google সহ Facebook, Microsoft, Intel, Dell, Apple ইত্যাদি বিশ্বের সব জায়ান্ট আইটি কোম্পানিতে রয়েছে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রচুর চাহিদা।

See also  গণিত নিয়ে কেন পড়বেন:সাবজেক্ট রিভিউ

আরো চমৎকার বিষয় হচ্ছে, অন্যদের মতো কারো অধীনে কাজ না করতে চাইলে, তুমি নিজেই হয়ে যেতে পারো একজন উদ্যোক্তা! গড়ে তুলতে পারো তোমার নিজের আইটি ফার্ম। কে জানে, হয়ত তোমার তৈরি করা প্রতিষ্ঠানটিই একদিন হয়ে উঠবে বিশ্বের নামকরা কোনো কোম্পানি!

 

CSE বা কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হবার সুযোগ কিরকম?

এই সাবজেক্ট পড়ে লেকচারার হওয়ার স্কোপ খুবই ভাল যদি সিজিপিএ হাই থাকে, হাই বলতে ৩.৭+ হলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভালো স্কোপ থাকে।

 

CSE বা কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে চাকরির ক্ষেত্রে স্যালারি রেঞ্জ কিরকম হয়?

ফ্রেশার হিসেবে কোনো কোম্পানিতে যোগদানের পর সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ হাজার স্যালারির জব পাওয়া যায়, এমনকি ৬০-৮০ হাজার ও হতে পারে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে। আর গুগলের মতো কোনো জায়ান্ট কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পেলে স্যালারি হয়ে থাকে অনেক বেশি, এমনকি ১০-১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত! এ কারণেই তো গুগল অনেকের ড্রিম জব!

CSE বা কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কেমন?

উন্নত বিশ্বের দেশগুলো সিএসই স্টুডেন্টদের জন্য প্রচুর স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এইসব দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণে স্কলারশিপ পাওয়া যায় উচ্চশিক্ষার জন্য। এছাড়া কম্পিউটার সায়েন্স রিলেটেড ফিল্ডে রিসার্চের জন্যও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে এই দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের Yale, Stanford, Harvard, MIT প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স ও পিএইচডির ক্ষেত্রে বেস্ট প্রোগ্রাম অফার করে থাকে।

 

বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কি কি পন্থা অবলম্বন করলে স্কলারশিপ পাওয়া যায়?

ফার্স্ট রিকোয়ারমেন্ট পাবলিকেশান, ভাল রিকগনাইজড কনফারেন্স বা জার্নালে পাবলিকেশান থাকলে সিজিপিএ কম হলেও কন্সিডার করে প্রফেসররা। তবে হাই সিজিপিএ অবশ্যই একটা বড় রিকোয়ারমেন্ট থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

অনেকে বলে বর্তমান যুগটাই হচ্ছে কম্পিউটারের। ব্যক্তিগত জীবনসহ কর্মক্ষেত্রের সকল পর্যায়েই এখন কম্পিউটার ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ লক্ষণীয়। তাই প্রযুক্তির এই যুগে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং হতে পারে একটি যুগোপযোগী ও বহুল সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার। তাহলে আর দেরি কেনো? যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকো, আর চলে এসো সিএসইর জাদুকরী দুনিয়ায়!

Related Articles

Back to top button