চাকরির প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংক এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংক এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদ সম্পর্কে বিস্তারিত

এই আর্টিকেল পড়ার পর আর একবিন্দুও কনফিউশন থাকবেনা। নতুনদের অবশ্যই জানা উচিত বিস্তারিত। লিখেছেন স্বয়ং বাংলাদেশ ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর।

বাংলাদেশে যে সকল লোভনীয় চাকরি আছে সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এর সহকারী ’পরিচালক(জেনারেল)’ অন্যতম। এ বিষয়ে ক্লাবের অফিশিয়াল পেইজে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর থেকে শুরু করে সাব ডিরেক্টর পর্যন্ত অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ১৫+ আর্টিকেল লিখেছেন প্রিপারেশন স্ট্র‍্যাটেজি সহ টোটাল সব বিষয় নিয়ে। তবুও নতুনদের মাঝে অনেক প্রশ্ন এখনো অজানা রয়ে গেছে।

তো চলুন Bangladesh Career Club এর মাধ্যমে আজ জানা হয়ে যাক এ চাকরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

শুরুতে যদি বলতে হয়, যে কেউ চাইলেই এই চাকুরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। সায়েন্স, বিজনেস স্টাডিজ, আর্টস এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। যে বিভাগ থেকেই পড়েন না কেন, আবেদন করতে হলে ন্যূনতম একটি রেজাল্ট লাগবে। আর সকলের পক্ষেই এই রেজাল্ট অর্জন করা খুব একটা কঠিন নয়।

অনেকের কাছেই শুনি, ভাইয়া বাংলাদেশ ব্যাংক এ কি লবিং লাগে? তবে শুনুন, এই চাকুরির সবচেয়ে ভাল দিক হলো, এটি ১০০% ফেয়ার। কারো যদি চাকুররি পরীক্ষায় ভাল নম্বর থাকে সে এমনিতেই এই চাকুরির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হবে। কোন ধরণের লবিং এই চাকুরিতে প্রয়োগের সুযোগ নেই। হয়তোবা কারো কারো মনে হতে পারে এটা বলার জন্য বলা।

তাহলে চলুন আরেকটু স্বচ্ছ ধারণা নেওয়া যাক:

এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদের পরিক্ষা পদ্ধতি

তিনটি ধাপে এই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়।

See also  প্রাইমারি ভাইভার পূর্ব প্রস্তুতি । কিভাবে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ভাইভা প্রস্তুতি নিবেন

Step 1 (MCQ): Marks 100, Topic: Bengali, English, Math, General Knowledge, ICT

Step 2 (Written Part): Marks 200, Topic: Essay & Paragraph Writing both in English & Bengali; Translation from English to Bengali and Bengali to English, Written Math

Step 3(Viva): Marks 25, Any Topic along with Your Graduation and/or Post Graduation Subject

প্রথমেই ১০০ নম্বরের MCQ টেস্ট হবে। যারা কাট মার্কস অর্জন করবেন তারা পরবর্তী ধাপ WRITTEN PART এর জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। আশা করি এই অংশটুকু যে ফেয়ার এটা নিয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই।

এবার আসুন WRITTEN PART এর ক্ষেত্রে। যদি বলি, ধরুন আপনি (লবিং নেই) এই অংশে ১৪০ পেলেন। আরেকজন (লবিং আছে) ১২৫ নম্বর পেল। That’s good, Please come to the very next step.

VIVA- এই অংশে নম্বর টা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। মাত্র ২৫ নম্বর। তাই এই অংশে নস্বর খুব একটা ডিফার করেনা। সবারই মোটামুটি ১৮-২২ এর মধ্যে থাকে। এবার আসুন আপনি (লবিং নেই) এই অংশে পেলেন ১৮-২০ নম্বর। আর আরেকজন (লবিং আছে) পেল ২০-২২ নম্বর। আরও পরিস্কার করি। ধরলাম আপনি (লবিং নেই) পেলেন ১৮ নম্বর আর আরেকজন (লবিং আছে) পেল ২২ নম্বর।

হয়ে গেল, এবার Written Part এবং Viva এই দুই অংশের নম্বরগুলো যোগ করুন। আপনার (লবিং নেই) হলো (১৪০+১৮=১৫৮) আর আরেকজন (লবিং আছে) পেল (১২৫+২২=১৪৭)। অতএব নিঃসন্দেহে আপনি (লবিং নেই) চাকুরিটা পাবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আগেও বলেছি, আবারও বলছি, বাংলাদেশ ব্যাংক-এ রিক্রুটমেন্ট ১০০% ফেয়ার। লবিং আছে যারা মনে করছেন তারা হয়তো ভুল তথ্য পেয়েছেন অথবা নিজের যোগ্যতাকে ছোট করে দেখছেন।

See also  Introduce Yourself । ভাইভা বোর্ডে কিভাবে নিজেকে Introduce করবেন?

কিভাবে আপনি এই চাকুরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন চলুন জানা যাক। কি পড়তে হবে, কিভাবে পড়তে হবে তা পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে।এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর

 

এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে আবেদন করার যোগ্যতা

স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে যে কোন বিষয়ে ০৪(চার) বছর মেয়াদী স্নাতক (সম্মান) অথবা স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট এবং তদুর্দ্ধ পর্যায়ের পরীক্ষাসমূহ মিলে কমপক্ষে ০২(দুই) টি বিষয়ে প্রথম শ্রেণী/বিভাগ থাকতে হবে।

কোন পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণী/বিভাগ থাকা যাবেনা।

স্নাতক (সম্মান) পর্যন্ত যদি কারো ০২(দুই) টি প্রথম শ্রেণী/বিভাগ থাকে, সে আবেদন করতে পারবে। অথবা স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী সহ যদি কারো ০২(দুই) টি প্রথম শ্রেণী/বিভাগ থাকে, সেও আবেদন করতে পারবে।

 

নিম্নে শ্রেণী/বিভাগ সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো

ক) এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে:-

  • জিপিএ ৩.০০ বা তদুর্দ্ধ হলে প্রথম শ্রেণী/বিভাগ
  • জিপিএ ২.০০ থেকে ৩.০০ এর কম হলে দ্বিতীয় শ্রেণী/বিভাগ
  • জিপিএ ১.০০ থেকে ২.০০ এর কম হলে তৃতীয় শ্রেণী/বিভাগ

 

খ) স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত সিজিপিএ এর ক্ষেত্রে :-

৪.০০ পয়েন্ট স্কেলেঃ

  • জিপিএ ৩.০০ বা তদুর্দ্ধ হলে প্রথম শ্রেণী/বিভাগ
  • জিপিএ ২.২৫ থেকে ৩.০০ এর কম হলে দ্বিতীয় শ্রেণী/বিভাগ
  • জিপিএ ১.৬৫ থেকে ২.২৫ এর কম হলে তৃতীয় শ্রেণী/বিভাগ

 

৫.০০ পয়েন্ট স্কেলে

  • জিপিএ ৩.৭৫ বা তদুর্দ্ধ হলে প্রথম শ্রেণী/বিভাগ
  • জিপিএ ২.২৫ থেকে ৩.০০ এর কম হলে দ্বিতীয় শ্রেণী/বিভাগ
  • জিপিএ ২.০৬৩ থেকে ২.৮১৩ এর কম হলে তৃতীয় শ্রেণী/বিভাগ

আবেদন করার নিয়ম

বাংলাদেশ ব্যাংক এর সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় অন্যান্য তথ্যের পাশাপাশি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্তৃক প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ নির্দিষ্ট ঘরে অবশ্যই উল্লেখ করবেন।

See also  কিভাবে ভাইভার প্রস্তুতি নিবেনঃ চাকরির ভাইভা টিপস

অনলাইনে আবেদন করার পর আপনাকে একটি CV Identification Number, Tracking Number দেওয়া হবে।
মনে রাখবেন অসম্পূর্ণ/ভুল তথ্য সম্বলিত দরখাস্ত কোন প্রকার যোগাযোগ ছাড়াই বাতিল করা হয়। তাই আবেদন করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

 

এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদের বেতন স্কেল ও সুযোগ সুবিধা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর, ৯ম গ্রেড। মজার ব্যাপার হলো চাকুরিতে যোগদানের সাথে সাথে একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়। যেমন মূল বেতন যদি ২২,০০০ টাকা হয়, যোগদানের সময় সেটি একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট (৫%) যোগ হয়ে ২৩,১০০ হবে। এর সাথে ঢাকার অফিস হলে ৫৫% এবং ঢাকার বাইরের অফিস হলে ৪৫% করে বাসা ভাড়া বাবদ দেওয়া হয়। এছাড়াও ১,৫০০ টাকা মেডিকেল বাবদ এবং ১,৫০০ টাকা ইন্টারনেট বিল বাবদ দেয়া হয়। এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর

বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ

চাকুরিতে যোগদানের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ট্রেনিং একাডেমিতে ৩ মাসের একটি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি ইন্ডিয়াতে ১৫ দিনের একটি ট্রেনিং সেশন হয়।

এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর চাকুরি স্থায়ীকরণ

চাকুরিতে যোগদানের ১(এক) বছর পর্যন্ত প্রবেশন পিরিয়ড থাকে। এরপর স্থায়ীকরণ করা হয়।

ফরেন ট্যুর

সময়ে সময়ে বিবিধ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের কাজের চাহিদানুযায়ী বিভিন্ন দেশে ট্রেনিং প্রদান করা হয়।

কম্প্যুটার এবং মটর বাইক লোন

চাকুরিতে স্থায়ী হবার পর কম্প্যুটার এবং মটর বাইক লোনের জন্য আবেদন করা যাবে।

এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হোম লোন

চাকুরি ৩(তিন) বছর অতিক্রান্ত হলে হোম লোনের জন্য আবেদন করা যাবে।

এছাড়াও আরো বিবিধ রকম সুবিধা আছে। যেমন: বিদেশে স্কলারশিপ সুবিধা, বিআইবিএম অথবা ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাংকের খরচে মাস্টার্স করার সুবিধা, গাড়ি সুবিধা ইত্যাদি।

Related Articles

Back to top button