পদার্থ

মাত্রা কাকে বলে, কত প্রকার ও মাত্রার ব্যবহার

পদার্থবিজ্ঞানে মাত্রা বলতে কী বোঝায়?

মাত্রা এর ইংরেজী হল- Dimension

কোনো ভৌত রাশিতে উপস্থিত মৌলিক রাশিগুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।

যেমন : দৈর্ঘ্যের মাত্রা : L সময়ের মাত্রা : T ভরের মাত্রা : M

ডাইমেনশনকে যদি সোজা বাংলায় বলি এর অর্থ হয় ‘মাত্রা’। স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের ধারণা তিনটি মাত্রা বা ডাইমেনশন নিয়ে। তবে স্ট্রিং থিওরী অনুযায়ী ১০ টা ডাইমেনশন, M – থিওরী অনুযায়ী ১১ টি, বোসোনিক স্ট্রিং থিওরী অনুযায়ী ২৬ টি পর্যন্ত ডাইমেশন থাকতে পারে।

যদিও এগুলো এখনো একটা হাইপোথিসিস (এক্সপেরিমেন্টালি অপ্রমাণিত) মাত্র, কিন্তু এগুলোই এখনো পর্যন্ত মহাবিশ্বের অনেক জটিল বিষয় গুলোকে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখা করতে পেরেছে। যেহেতু এইসব থিওরী পুরোপুরি প্রমাণিত নয়, তাই মহাবিশ্ব এই নিয়ম মেনেই চলে এটা বিশ্বাস করার কোনো লজিক নেই। এই পর্বে প্রথম ৫ টা ডাইমেনশন নিয়ে সহজ কনসেপ্টে আলোচনা করবো, যেখানে প্রতি ডাইমেনশনে একটা কাল্পনিক প্রাণীর জীবন কেমন হবে তা দিয়ে ডাইমেনশন গুলোকে অনুধাবন করার চেষ্টা করবো।

মাত্রা প্রধানত ০৬ প্রকার। যথা:

  • 0 মাত্রা
  • ১ম মাত্রা
  • ৩য় মাত্রা
  • ৪র্থ মাত্রা
  • ৫ম মাত্রা
  • ৬ষ্ঠ মাত্রা

 

তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

0 মাত্রা বা 0D কি বা 0 মাত্রা 0D বলতে কি বোঝায়?

শুধু একটি বিন্দু যার দৈর্ঘ্যও নেই, প্রস্থও নেই এবং নেই উচ্চতা।

এখানে যদি কোনো প্রাণী থাকে, তবে সে সামনে-পেছনে, ডানে-বামে, উপরে-নিচে কোনো দিকেই যেতে পারবেনা। যেখানে এর এর জন্ম সেখানেই এর মৃত্যু।

See also  আলফা রশ্মি কাকে বলে ও আলফা রশ্মির ধর্ম?

 

১ম মাত্রা বা 1D বলতে কি বোঝায়?

শুধু একটি রেখা, যার শুধুমাত্র দৈর্ঘ্য আছে। অর্থাৎ এখানে যদি কোনো জীব থাকে, তাহলে সে শুধু সামনে এবং পেছনে যাওয়া-আসা করতে পারবে। ডান-বাম, উপর-নিচ বলে তার কাছে কিছুর অস্তিত্বই নেই।

 

২য় মাত্রা বা 2D বলতে কি বোঝায়?

একটি বর্গ/ত্রিভুজ, যার শুধু দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ রয়েছে। অর্থাৎ এখানে থাকা জীব সামনে-পেছনে যাওয়ার সাথে সাথে ডানে-বামেও যেতে পারবে। তবে উপর-নিচ মাত্রা বলে তাদের কাছে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই।

 

৩য় মাত্রা বা 3D বলতে কি বোঝায়?

একটি ঘনক,যার দৈর্ঘ্য,প্রস্থ এবং উচ্চাতাও রয়েছে।

যেমনঃ আমাদের পৃথিবী, আমরা, অন্যান্য প্রাণীরা, যে কোনো আমাদের কাছে দৃশ্যমান যেকোনো বস্তু, সবই ত্রিমাত্রিক।

আর আমরা তো জানিই, এখানে আমরা সামনে-পেছনে, উপরে-নিচে, ডানে-বামে সব দিকে এগোতে পারি।

এর পরের মাত্রায় যদি আমরা অন্য কোনো বড় ফিজিক্যাল স্ট্রাকচার যোগ করি তাহলে ব্যাপারটা পুরো গুগলি হয়ে যাবে। তাই, এগুলোকে বড় স্কেলের ফিজিক্যাল স্ট্রাকচার হিসেবে না দেখে ছোট স্কেলে ভাবতে হবে। কতটা ছোট? যতটা ছোট হলে আপনি যে কোনো বস্তুর ভেতর দিয়ে অবাধে বিচরণ করতে পারবেন। আর এখান থেকেই শুরু হয় ৪র্থ মাত্রার।

 

৪র্থ মাত্রা বা 4D বলতে কি বোঝায়?

আইন্সটাইনের রিলেটিভিটি অনুসারে ধারণা করা হয় যে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চতার সাথে আরও একটি মাত্রা যোগ হয়, যা হল সময়। আর স্ট্রিং থিওরিতে এই সময় হলো আমাদের এই মহাবিশ্বের যেকোনো সময়ের ক্ষুদ্রতর মূহুর্ত বা অবস্থা। তাই এখানে থাকা কোনো জীব উপর-নীচ, সামনে-পেছনে, ডানে-বামে যাওয়ার সাথে সাথে

See also  বস্তুর গতির উপর বলের প্রভাব: নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র

যে কোনো বস্তুর ভেতর দিয়েও বিচরণ করতে পারবে। আর তার ঐ মূহুর্ত ঘটা যে কোনো কিছু স্থানের উর্ধ্বে গিয়ে দেখতে পাবে। উদাহরণ দিয়ে বলি, একটা কাঠের বাক্সে কোনো আমি একটা বল রাখলাম, রাখার পর আপনি কি ঐ বলটা দেখতে পাবেন? অবশ্যই না।

তবে ৪র্থ ডাইমেনশনে থাকা প্রাণী তা দেখতে পাবে। অর্থাৎ তারা হয়ে যাবে স্থান জয়ী! যে কোনো কিছুর ভেতর দিয়ে দেখতে পাবে তারা। তাই তাদের দৃষ্টি ঐ বাক্সের ভেতরের সময়ের অবস্থায়ও পৌঁছে যাবে। যার ফলে ঐ বাক্সের ভেতরে কি আছে তাও দেখতে পাবে তারা। যদিও এসব আমাদের অনুভূতির বাইরে। তাই আমরা কল্পনাও করতে পারবোনা আসলে তারা কিভাবে এই জগৎটাকে দেখে।

 

৫ম মাত্রা বা 5D বলতে কি বোঝায়?

ব্যাপারটা আরও বেশি জটিল হয়ে যায়। এই মাত্রার জগৎটা হবে, অসংখ্য চতুর্থ মাত্রার জগতের সমষ্টি। অর্থাৎ চতুর্থ মাত্রা যেমন মহাবিশ্বের নির্দিষ্ট একটা সময় বা মূহুর্ত দ্ধারা সৃষ্ট, তেমনই ৫ম মাত্রা মহাবিশ্বের সকল সময়ের সমষ্টি নিয়ে সৃষ্ট। অর্থাৎ এই ডাইমেনশনে থাকা জীব মহাবিশ্বের সকল সময়ের অবস্থাকে অর্থাৎ মহাবিশ্বের শুরু থেকে যত সময় পার হয়েছে সব কিছু টাইমলাইন আকারে দেখতে পারবে।

যেমনটা ইন্টারস্টিলার (Intersteller – 2014) মুভিতে দেখানো হয়েছিল। তারা বর্তমান থেকে অতীতে চলে যেতে পারবে বা অতীত থেকে ভবিষ্যতে!

See also  পরমাণুর কেন্দ্রে ইলেকট্রন না থাকা সত্বেও কেন্দ্র থেকে বিটা কণার নিঃসরণ হয়

অর্থাৎ পারফেক্ট টাইম ট্রাভেল কেবল এখানেই সম্ভব। শুধু অতীতে যাওয়া নয়, তারা চাইলে অতীতে গিয়ে অতীতকে প্রভাবিত করে ভবিষ্যতকে পরিবর্তন করতে পারবে।

অর্থাৎ তারা চাইলে সেই গ্র‍্যান্ডফাদার প্যারাডক্সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিতে পারে, যার জন্য সাধারণ অবস্থায় অতীত ভ্রমণ সম্ভব নয়। কিভাবে? এটার উত্তর ২য় পর্বে দিব। যাইহোক, এখানেই জন্ম প্যারালাল ইউনিভার্সের ধারণার। কি এই প্যারালাল ইউনিভার্স?

৫ম ডাইমেনশনে সময়ে সামনে পেছনে যাওয়ার সাথে সাথে ডানে-বামেও যাওয়া সম্ভব হবে। কিহ! মাথার উপর দিয়ে গেলো তাইতো?

আচ্ছা আরেকটু সহজ ভাবে বোঝাই।

ধরুন, আপনার পেশায় বিজ্ঞানী হওয়ারও ইচ্ছা আছে আবার একজন ফটোগ্রাফার হওয়ারও ইচ্ছা আছে। কিন্তু সাধারণ অবস্থায় আপনিতো যে কোনো একটা অপশনই বেছে নিতে পারবেন, হয় বিজ্ঞানী নাহয় ফটোগ্রাফার। কিন্তু আপনি যদি ৫ম ডাইমেনশনে থাকেন, তাহলে আপনি একই সাথে দুটো পেশাই গ্রহণ করতে পারবেন।

 

৬ষ্ঠ মাত্রা 6D বলতে কি বোঝায়?

আর এর উপরের মাত্রা অর্থাৎ ৬ষ্ঠ ডাইমেনশনের মাধ্যমে প্যারালাল ইউনিভার্সে ভ্রমণ করে আপনার ২ সত্ত্বা(ফটোগ্রাফার এবং বিজ্ঞানী) একে অপরের সাথে দেখাও করতে পারবে। মূলত 6D থেকে উচ্চতর মাত্রা :- স্ট্রিং থিওরী অনুযায়ী ১০ টা ডাইমেনশন, M – থিওরী অনুযায়ী ১১ টি, বোসোনিক স্ট্রিং থিওরী অনুযায়ী ২৬ টি পর্যন্ত ডাইমেশন থাকতে পারে।

যদিও এগুলো এখনো একটা হাইপোথিসিস (এক্সপেরিমেন্টালি অপ্রমাণিত)। কেননা ৩য় মাত্রায় বসে উর্ধ্বতর মাত্রা প্রমাণ করা চাট্টিখানি কথা নয়। সেগুলো বুঝতে অবশ্যই উন্নত মস্তিষ্কের প্রয়োজন। যা আমাদের নেই।

Related Articles

Back to top button